প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
গ্রীষ্মকাল শুরু মানেই তীব্র রোদ, গরম বাতাস ও অতিরিক্ত ঘামের কারণে জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ে। বাংলাদেশে সাধারণত মার্চের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গরমের প্রভাব থাকে, এ সময় বিভিন্ন রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
তীব্র গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়ার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা শরীরকে দুর্বল করে তোলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ কারণে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, আখের রসের মতো পানীয় শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এ সময় তরমুজ, আম, আঙুর, কমলা, খেজুরসহ রসালো ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হালকা, কম তেল ও কম মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
গরমে ঘামাচি, ত্বকের ফুসকুড়ি, হজমের সমস্যা ও ডায়রিয়ার মতো রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, হিট ক্র্যাম্প, হিট এক্সহস্টশন ও হিট স্ট্রোক—এই তিনটি সমস্যা গরমে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যার মধ্যে হিট স্ট্রোক সবচেয়ে মারাত্মক।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে মাথা ব্যথা, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগীকে ঠাণ্ডা পরিবেশে নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।
গরমে সুস্থ থাকতে বেশি পানি পান করা, হালকা সুতির কাপড় পরা, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অ্যালকোহল, অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ও সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে শরীরের প্রতি যত্নবান হলে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।



