প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
দেশজুড়ে বৈশাখের তীব্র তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই প্রচণ্ড গরমে বাড়ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি, যার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো হিটস্ট্রোক। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে হিটস্ট্রোক দেখা দেয়। এতে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকেন শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি, রোদে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী এবং দীর্ঘ সময় খোলা রোদে থাকা ব্যক্তিরা।
অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, ভারী কাজ করা এবং আঁটসাঁট পোশাক পরা— এসব কারণে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
হিটস্ট্রোকের আগে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়— প্রচণ্ড পিপাসা, কথা বলতে কষ্ট, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা, চোখে অন্ধকার দেখা, মাথাব্যথা, বমিভাব, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যাওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তচাপ কমে যাওয়া, খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মিত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি পান করা ভালো। প্রয়োজনে ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে।
গরমে ঢিলেঢালা, হালকা রঙের সুতি পোশাক পরা, রোদে দীর্ঘ সময় না থাকা, প্রয়োজনে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা এবং ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হিটস্ট্রোক হলে দ্রুত রোগীকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে এবং প্রচুর পানি বা খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
এই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে লেবুর শরবত, বেলের শরবত, ডাবের পানি, আঙুরের রস, টক দইয়ের মাঠা, পুদিনা-লেবুর পানীয়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক পানীয় উপকারী। তবে সফট ড্রিঙ্কস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চললেই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।



