রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পোলিও প্রতিরোধে বাংলাদেশের পাশে চীন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ১১:২০ এএম

পোলিও প্রতিরোধে বাংলাদেশের পাশে চীন

ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ পোলিও টিকা অনুদান দিয়েছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জন্য ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও টিকা প্রদান করেছে। এই সহায়তাকে দেশের টিকাদান কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই টিকা হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকার চালান তুলে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুদান হিসেবে পাওয়া এই টিকাগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুমোদিত। টিকার ধরন হলো নিষ্ক্রিয় স্যাবিন স্ট্রেইনভিত্তিক পোলিও প্রতিরোধক টিকা। মোট ৭৬ হাজার ভায়ালে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে। এসব টিকা দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে পোলিও নির্মূলে দীর্ঘদিন ধরে সরকার সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম আরো জোরদার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্য থেকেই এই সহায়তা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে টিকাদান কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সফলভাবে শিশুদের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহায়তায় দেশের স্বাস্থ্যখাত আরো শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর কাছে নিরাপদ টিকা পৌঁছে দেওয়া। কোনো শিশুই যেন টিকাবঞ্চিত না থাকে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এই অনুদান সেই কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করবে।

অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, স্বাস্থ্যখাতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলিও একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না দিলে শিশুদের স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনুদান হিসেবে পাওয়া টিকাগুলো দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে আরো কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও জনস্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যখাতে টিকা ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। আধুনিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা এবং দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও নিরাপদভাবে টিকা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অনুদান সেই প্রচেষ্টাকে আরো এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!