রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু আজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৯:০৭ এএম

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু আজ

প্রতীকী ছবি

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। দুই দেশের অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়কে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের নব্বইতম বৈঠক। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠক চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।

দুই দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, নদী রক্ষা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পানির ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে আগ্রহ। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নিতে বুধবার কলকাতায় পৌঁছেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। এছাড়া দলে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।

এ ছাড়া ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সেলর মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দও আলোচনায় যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ বিভাগের একজন প্রধান প্রকৌশলীও আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

এবারের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ। ১৯৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির কার্যকারিতা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। ফলে নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো কিংবা শর্ত সংশোধনের বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদে গিয়ে ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গার পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করবে। সেখানে নদীর বর্তমান প্রবাহ, পানির মাত্রা এবং বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হবে। পরে প্রতিনিধিরা কলকাতায় ফিরে মূল বৈঠকে অংশ নেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গার পানিবণ্টন ইস্যু শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ত্রিশ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার বিধান রয়েছে। পানির প্রবাহের পরিমাণ অনুযায়ী ভাগাভাগির নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে উভয় দেশ ন্যায্য সুবিধা পায়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান বৈঠকে শুধু গঙ্গা নয়, সীমান্তবর্তী অন্যান্য অভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় আসতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ কমে যাওয়া এবং পানির সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সমঝোতা বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক আস্থা আরও জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!