রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৌহিদ হোসেন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৌহিদ হোসেন

ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক দায়িত্ব পালন করা এম তৌহিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালনকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে তিনি অন্তত তিনবার দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা পালন করত। সাত সদস্যের একটি বিশেষ পরামর্শক দল নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিত বলে তার কাছে পরে স্পষ্ট হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, দায়িত্বে থাকার সময় বিভিন্ন মহলে এমন আলোচনা শুনতেন যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট কয়েকজনের মাধ্যমেই নেওয়া হচ্ছে। যদিও শুরুতে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পরিষ্কার ধারণা পাননি। পরে একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে আরও অবগত হন বলে জানান তিনি।

এম তৌহিদ হোসেনের দাবি, পররাষ্ট্রবিষয়ক নানা সিদ্ধান্তে তার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ ভূমিকা ছিল না। এমনকি বহুল আলোচিত একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, ওই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আলোচনায় অন্য কয়েকটি দপ্তর প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে দেশের ভোটের ঠিক আগে যে কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, সেখানে পররাষ্ট্রবিষয়ক দপ্তরের অংশগ্রহণ ছিল খুবই সীমিত। বরং বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সম্পৃক্ততা বেশি ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব পালনকালে একাধিকবার সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্টরা তাকে বোঝান যে, এমন সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সে কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন।

তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন মন্তব্য ভবিষ্যতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। ফলে সাবেক এই উপদেষ্টার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!