রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরীমণি বিতর্কে চাকরি হারাচ্ছেন সাকলায়েন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

পরীমণি বিতর্কে চাকরি হারাচ্ছেন সাকলায়েন

ছবি: সংগৃহীত

এক সময় রাজধানীর গোয়েন্দা শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার পর তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপ শেষে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে একটি আলোচিত মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে। দায়িত্ব পালনকালে এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং অভিযোগ যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, যোগাযোগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য আচরণবিধির পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত শৃঙ্খলা বিধির আওতায় অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার ব্যক্তিগত আচরণ ও কিছু সিদ্ধান্ত সরকারি দায়িত্বের মর্যাদা এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেছিলেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর বিষয়টি সরকারি কর্মকমিশনের মতামতের জন্য পাঠানো হয়।

সরকারি কর্মকমিশনের মতামত পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে অগ্রসর হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এখন আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হলে তার চাকরিজীবনের সমাপ্তি ঘটবে। বিষয়টি প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!