প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি মনে করেন, দেশের শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত চেতনা বিকাশে সহায়ক হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করার পর ধাপে ধাপে উচ্চতর শ্রেণিগুলোতে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ক্রীড়া অংশগ্রহণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের সামনে নানা সামাজিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। একটি মানবিক, দক্ষ এবং আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে পাঠ্যবিষয়ের পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কার্যক্রমের বিকল্প নেই। তাই সরকার শিক্ষার প্রতিটি স্তরে এসব কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এবারের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ক্রীড়াঙ্গনে সমতা ও অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসা প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে। তিনি প্রতিযোগিতার সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।



