প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
সোমবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক কেন্দ্র পুত্রজায়ায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, বৈঠকে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে আটক থাকা বাংলাদেশিদের পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনারও অনুরোধ জানিয়েছেন। তার মতে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যার ইতিবাচক সমাধান সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়া উচিত। এতে সাধারণ শ্রমিকরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে শ্রমিকবান্ধব নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুই নেতার আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং উচ্চমূল্যভিত্তিক শিল্প খাতের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বৈঠকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মতে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।



