প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও কারবালার আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলাম কখনো বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতাকে সমর্থন করে না। বরং এই মহান ধর্ম শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের দশম দিন মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র আশুরা কেবল একটি শোকের দিন নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই দিনটি মানুষের মাঝে আত্মত্যাগ, ধৈর্য, নৈতিকতা এবং আদর্শের প্রতি অটল থাকার শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনা মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীরা অন্যায়, জুলুম এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ যুগে যুগে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামী মানুষদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কারবালার শিক্ষা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মানবিক মর্যাদা রক্ষা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শের প্রশ্নে আপস না করার যে শিক্ষা কারবালার ঘটনা থেকে পাওয়া যায়, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আশুরার মহান আদর্শ ধারণ করে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে কারবালার মর্মস্পর্শী ঘটনায় শাহাদাতবরণকারী তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে শান্তি, কল্যাণ ও ঐক্যের জন্য প্রার্থনা করেন।



