প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন চত্বরে অবস্থিত ‘জনগণের বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন করা হয়। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি মালয়েশান সফর শেষে চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বেইজিংয়ে পৌঁছে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আগের দিন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষি, অবকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি উভয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগবিষয়ক এক সম্মেলনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং চীনের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারি সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।



