প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য আরও নির্ভুল, হালনাগাদ এবং নির্ভরযোগ্য রাখতে নতুন উদ্যোগের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে তা নবায়ন করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। বর্তমানে আইন ও বিধিমালায় নবায়নের সুযোগ থাকলেও তা বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরিবর্তিত বাস্তবতায় এই নিয়ম কার্যকর করার বিষয়ে কমিশনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছরে একজন মানুষের বাহ্যিক অবয়ব, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং পরিচয় শনাক্তকরণের বিভিন্ন উপাদানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মুখাবয়বের পরিবর্তন যেমন স্বাভাবিক, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাজনিত কারণে শারীরিক পরিবর্তনও ঘটে। এছাড়া দীর্ঘদিনের ব্যবধানে আঙুলের ছাপের মানও কমে যেতে পারে, যা পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পরিচয়পত্র নবায়নের বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। আইন আরও বলছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অথবা পরে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে এবং নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নবায়নের আবেদন করা যায়। তবে বাস্তবে অধিকাংশ নাগরিক প্রয়োজন না হলে পরিচয়পত্র নবায়ন করেন না। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নির্ধারিত সময় শেষে সবার জন্যই নবায়ন বাধ্যতামূলক হতে পারে।
বর্তমান বিধিমালায় নবায়নের জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে অথবা কমিশনের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ফি জমার প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন সাধারণ অথবা জরুরি হিসেবে জমা দেওয়া যায়।
বিধিমালা অনুযায়ী, জরুরি আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য সাত দিন এবং সাধারণ আবেদনের জন্য ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা এবং জরুরি আবেদনের জন্য ১৫০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা পুনরায় সংগ্রহের ক্ষেত্রে আলাদা ফি প্রযোজ্য হয়, যা আবেদন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে অনেকেই পরিচয়পত্র নষ্ট, হারিয়ে যাওয়া কিংবা তথ্য হালনাগাদের প্রয়োজন হলে নতুন পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে নবায়নের আওতায় আনলে জাতীয় পরিচয়ভান্ডারের তথ্য আরও হালনাগাদ ও নির্ভুল রাখা সম্ভব হবে। এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও পরিচয় যাচাই আরও সহজ এবং নির্ভরযোগ্য হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রস্তাবটি বিভিন্ন দিক থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মতামত ও বাস্তবতা বিবেচনার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিক পরিচয়ের নির্ভুলতা বৃদ্ধি পাবে, পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে এবং রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর পরিচয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে।



