প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
দেশের শিল্পখাতে চলমান অর্থনৈতিক চাপ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রয়াদেশের সংকটের প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প। একদিকে বিভিন্ন কারখানা স্থায়ীভাবে উৎপাদন বন্ধ করছে, অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীসংখ্যা কমিয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটছে। ফলে হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অসংখ্য কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও কর্মীসংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার বেশ কিছু কারখানা সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে বহু শ্রমিক এখনো বকেয়া বেতন, ভাতা ও আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ছাঁটাইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ঈদের পর কয়েকটি বড় কারখানায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের চাকরি চলে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকেই নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কারখানা মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, অর্থায়নে জটিলতা এবং ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে শ্রমিক ছাঁটাই এবং কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে সব ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সংকটই একমাত্র কারণ নয়। অনেক শ্রমিককে সংগঠন গঠন বা শ্রমিক অধিকার নিয়ে সক্রিয় হওয়ার কারণেও চাকরি হারাতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করছে।
শ্রম অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, ছাঁটাইয়ের প্রতিটি ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন, তাদের আইনানুগ ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পখাতকে স্থিতিশীল রাখতে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় চলমান সংকট আরও গভীর হয়ে দেশের শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



