প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বর্তমানে অনেক এলাকায় যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে, তার প্রধান কারণ বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতি নয়; বরং বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন কারিগরি সীমাবদ্ধতা। অতীতে দ্রুত শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে যেসব বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো এখন অতিরিক্ত চাপ বহন করতে পারছে না। ফলে চাহিদা বাড়লেই বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল নিয়ে এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, গ্রামীণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে টেকসই করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে, যা বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক দায় কমাতে সহায়ক হবে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে সৌরশক্তি থেকে প্রায় দশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
কৃষিজমি রক্ষার বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আবাদি জমির পরিবর্তে অনাবাদি ও পতিত জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে একদিকে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে না, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনও এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।



