প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি মাসে নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ হলেও জনকল্যাণমূলক একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ধাত্রী সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সহকর্মীদের উদ্দেশে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলেন, কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদান রাখতে পারেন। এরপর তিনি জানান, নিজের এক লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন থেকে প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বেতন ব্যক্তিগত হিসাবে জমা হওয়ার পর নির্ধারিত অর্থ চেকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও একই ধরনের একটি চর্চা অনুসরণ করতেন। তাঁর বেতনের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হতো। সেই আদর্শ থেকেই বর্তমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কারণে অনেক পরিবার অযথা ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। তিনি চিকিৎসকদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানুষের আস্থা ধরে রাখতে চিকিৎসাসেবায় সততা, মানবিকতা ও পেশাগত মূল্যবোধ বজায় রাখা অপরিহার্য।
মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ ধাত্রীদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরে স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ পাবেন এবং তাঁদের একটি বড় অংশ ধাত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসবকক্ষ চালু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



