প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় অনুষ্ঠিত এই পরিদর্শনে তিনি মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে প্রশিক্ষণ এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান প্রশিক্ষণের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। তিনি একটি অভিযানের অনুশীলন প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাসদস্যদের প্রস্তুতি ও কৌশল সম্পর্কেও ধারণা নেন।
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী সেনা বাঙ্কারে প্রবেশ করে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি ছদ্মবেশে অবস্থান নেওয়া সদস্যদের কাছেও যান এবং তাদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিভিন্ন অনুশীলনে ব্যবহৃত সমরকৌশল, অবস্থান গ্রহণ এবং সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়গুলোও তিনি মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মাঠে কর্মরত সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। এতে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। তারা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।
পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দেশের স্বার্থে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিদর্শন সেনাবাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রতি সরকারের গুরুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।



