প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এর জন্য দেশের সব মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমানের বাস্তবতা। তাই দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে পরিবেশ ও জলবায়ুর বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বৃক্ষ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছের সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
রাজধানী ঢাকার পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন স্থানে কলকারখানা স্থাপন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় পরিবেশ পদক, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া সামাজিক বনায়নের সঙ্গে যুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের অর্থ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সভাপতিত্ব করেন।
পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।



