প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম
দেশে যেন আর কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভর অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বিনিয়োগনির্ভর ও টেকসই কাঠামোয় রূপান্তর করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তাকে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকরা একটি একক পরিচয়ভিত্তিক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এ কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিরোধী দলের সদস্যরাও এই কর্মসূচির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, যা জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐকমত্যের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রণীত ৩১ দফা এখন জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া জুলাই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দায়বদ্ধ। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া আস্থার প্রতিফলন ঘটাতেই সরকার ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাবে।
শিক্ষা খাতের সংস্কারের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে জাতীয় আয়ের পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে মতবিরোধ স্বাভাবিক হলেও তা কখনো শত্রুতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।



