প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৯:২০ এএম
সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন থেকে দুটি দিবস একই দিনে পালন না করে পৃথক তারিখে উদযাপন করা হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস এবং ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস যথাযথভাবে পৃথক আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস এবং ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পৃথকভাবে উদযাপিত হয়ে আসছিল। তবে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া এক সিদ্ধান্তের ফলে দুই দিবস একত্রে ১২ আগস্ট পালনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস একই দিনে উদযাপিত হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বর্ষাকালে দুই দিবস একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যুব র্যালি, যুব সমাবেশ, যুবমেলা এবং উন্মুক্ত কর্মসূচিগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রত্যাশিতভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এতে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি কমে যায় এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের লক্ষ্যও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
এছাড়া যুব উদ্যোক্তাদের জন্য আয়োজিত মেলাগুলোও প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। অনেক উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ফলে ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রচারণার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
সরকারের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, জাতীয় যুব দিবসের সঙ্গে আয়োজিত যুবমেলাগুলো সাধারণ মানুষের বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। অন্য সময় একই ধরনের আয়োজন করলে জনসম্পৃক্ততা এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই দিবস দুটি আবার পৃথকভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক যুব দিবস সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে পালিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে জাতীয় যুব দিবস সরকারি উদ্যোগ ও অর্থায়নের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। তাই দুটি দিবস পৃথকভাবে পালিত হলে প্রতিটি আয়োজনের লক্ষ্য, গুরুত্ব এবং কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকার আশা করছে, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে যুব উন্নয়নমূলক কর্মসূচি আরও কার্যকর হবে, যুব উদ্যোক্তারা অধিক সুযোগ পাবেন এবং দুই দিবসের স্বতন্ত্র গুরুত্বও যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।



