প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্প বস্ত্র খাতের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই কমিটি বস্ত্রশিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করবে এবং শিল্প খাতে নতুন গতি ফিরিয়ে আনবে।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বস্ত্র খাত নানা ধরনের জটিল সমস্যার মুখোমুখি হলেও অতীতে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমান সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, বস্ত্রশিল্পের সমস্যা একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তাই এর সমাধানও রাতারাতি সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ করতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে আনুমানিক দেড় বছর সময় লাগতে পারে। তবে শিল্প উদ্যোক্তারা সরকারের এই সময়সীমাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ, উৎপাদন ব্যয়, আর্থিক সংকট, ব্যাংকিং সহায়তা এবং শিল্পকারখানার টেকসই পরিচালনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানি সংকট এবং আর্থিক চাপের কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, আবার কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ও বাড়বে।
শওকত আজিজ রাসেল আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে বস্ত্র খাতকে পাঁচ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। নতুন গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে প্রথম বৈঠকে বসবে। সেখানে খাতটির প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা সফল হলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে শুধু শ্রমিকরাই নয়, পরিবহন, কাঁচামাল, প্যাকেজিং এবং অন্যান্য সহযোগী খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশ আসে বস্ত্র ও পোশাক শিল্প থেকে। তাই এই খাতকে শক্তিশালী করা গেলে জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে দেশের বস্ত্রশিল্প আবারও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



