প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার খাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির সংশোধিত প্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে, স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
যোগাযোগ খাতে ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার যানজট কমানো এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ করার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
জ্বালানি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন কূপ খননের মাধ্যমে দেশীয় জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য খাতের অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে নতুন ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর ফলে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীরা নিজ নিজ জেলায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং রাজধানীমুখী চাপও কমবে।
সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ইতোমধ্যে অনুমোদিত আরও ১১টি প্রকল্পের বিষয়েও একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, বিমানবন্দর উন্নয়ন, মহাসড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং শিল্প প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং স্থানীয় উন্নয়নে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।



