প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৮:১৫ এএম
দীর্ঘ কয়েকদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো।
জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতির লিখিত পদত্যাগপত্র যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করে তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। সংবিধান সেই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে এবং নির্ধারিত নিয়মেই দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি সংবিধানের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি সেখানে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বহুমূত্র রোগ এবং কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারও হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্নায়ুজনিত নতুন জটিলতা দেখা দেওয়ায় মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়ছেন। এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী আগামী নব্বই দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় জাতীয় সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকারের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েকদিন ধরে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। তবে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এখন দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কার্যক্রম নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে এগোবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর তাঁর পরবর্তী আবাসন ও চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গভবন ত্যাগের পর তিনি রাজধানীর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী দেশে বা বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।



