রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্তের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্তের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সংগৃহীত

স্বনির্ভর, উদ্ভাবনভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এই খাতের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সম্মেলন ও উদ্ভাবন শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, দেশে ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর নকশা যাচাই, সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎনির্ভর আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত সংযোজন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশ কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি একটি জাতীয় উদ্যোগ, যেখানে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, শিল্প উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

সরকার ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি। বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামালের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ খাতের সেবার রপ্তানি আয় উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের সহায়তায় বার্ষিক অনুদান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে, যাতে তরুণ উদ্ভাবকেরা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত হন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, প্রয়োজনীয় কর-সুবিধা, শিল্পবান্ধব অবকাঠামো এবং বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করে সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি খাতে দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত উদ্ভাবন প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং নবীন উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যন্ত্রমানব প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন স্থান পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!