প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
বাংলাদেশের জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন মূল্যায়নে দেশটিকে আগের তুলনায় আরও নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করে সতর্কতার স্তর এক ধাপ নামানো হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বাড়তি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠকের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। বৈঠক শেষে সার্জিও গর এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন মূল্যায়নে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় ভ্রমণের জন্য অধিক নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার ফলেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে দেশের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি আগের চেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ারও ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা কমে আসা শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশি নাগরিক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকার আশা প্রকাশ করেছে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের প্রসার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতেও নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।



