রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তলানিতে এডিপি বাস্তবায়ন, ভাঙল সব রেকর্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১১:০১ এএম

তলানিতে এডিপি বাস্তবায়ন, ভাঙল সব রেকর্ড

ফাইল ছবি

দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন এক নেতিবাচক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা দেশের উন্নয়ন ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে বছরের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। এর প্রভাব পড়ে উন্নয়ন ব্যয়ে। ফলে অর্থবছর শেষে বরাদ্দের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়।

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট আকার ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। তবে শেষ মাসে হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়। শুধু জুন মাসেই ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার ৩০৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে ব্যয় বাড়ানোর এই প্রবণতা প্রকল্প বাস্তবায়নের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে এবং অনিয়মের ঝুঁকিও বাড়ায়।

গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এডিপি বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, সেখানে সর্বশেষ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাস্তবায়নেও বড় বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় শতভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শীর্ষে থাকলেও কয়েকটি মন্ত্রণালয় বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় করতে পারেনি। সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের বাস্তবায়ন হার ছিল সবচেয়ে কম। অন্যদিকে সড়ক পরিবহন, পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাত তুলনামূলক ভালো অগ্রগতি দেখিয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, শুধু উন্নয়ন বাজেটের আকার বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, সময়মতো কাজ সম্পন্ন এবং অপচয় ও দুর্নীতি কমিয়ে বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!