প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
সমঝোতা, অংশগ্রহণ এবং জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই সংবিধান সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন বাস্তবতা, জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য সামনে রেখে এমন একটি সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংস্কারকে সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, বরং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই আলোচনার সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা নির্ধারণ করা হবে। যদিও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটির জন্য সদস্যদের নাম এখনো পাওয়া যায়নি, তবুও সরকার আশা করছে তারা ইতিবাচকভাবে এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মতামত দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত প্রস্তাবও গ্রহণ করা হবে এবং তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবিধান সংস্কারের পথে কোনো বড় বাধা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার এটিকে চ্যালেঞ্জ নয়, বরং জাতির প্রত্যাশা পূরণের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ হচ্ছে সময়োপযোগী সংবিধান সংস্কার।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে আলোচনা ও পরামর্শ গ্রহণের সময়সীমা এখনই নির্ধারণ করা হয়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রস্তুত হওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব, ভিন্নমত, সরকারি নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



