রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভারত কেন শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ দিল?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৯:১৪ এএম

ভারত কেন শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ দিল?

ফাইল ছবি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত ও পলাতক একজন ব্যক্তিকে অন্য একটি দেশের ভূখণ্ডে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও সেখানে বসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করাকে তারা স্বাভাবিকভাবে দেখছে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য বা তৎপরতা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা তাঁর দলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তাদের কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে বলে সরকার জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা নয়। বরং দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আদালতের রায়ের পরই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের আইন, বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!