প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয় সামনে আসতে পারে। তবে সেগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হোক, সে কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে এসব কথা বলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের মত, প্রশ্ন ও ইস্যু থাকা স্বাভাবিক। এসব বিষয়কে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হয়। তার ভাষ্য, কোনো ইস্যু না থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণবন্ততাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা আলোচনায় বসে সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, উভয় দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মূলত একই—দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় থাকুক।
বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের প্রতিবেশী। এই বাস্তবতা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিকল্পও নেই।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের শুরুতেই এ দেশের মানুষের কাছ থেকে উষ্ণতা ও আন্তরিকতা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ত্রিবেদী বলেন, প্রথম সাক্ষাৎ হলেও পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। ভবিষ্যতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হবে।
ভবিষ্যতে দুই দেশের নেতৃত্বের বৈঠক বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পারস্পরিক সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী আশাবাদী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সামনে ভালো কিছুই হবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশেরই নিজস্ব কিছু বিষয় থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রত্যাশা হলো সুসম্পর্ক। সম্পর্ক ভালো থাকলে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করাও সহজ হয়।
বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী জুন মাসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। এর আগে তিনি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন।



