প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে জনরোষ বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর সংগঠন। বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্রিড ও কার্যালয়ে সম্ভাব্য হামলা ও ভাঙচুর ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট ও তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রত্যাশিত মাত্রায় হচ্ছে না। এর ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাদের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ থেকে কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় উৎপাদনব্যবস্থা থেকে বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎ তাদের আওতাধীন গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করে থাকে। দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের বড় একটি অংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেবার আওতায় রয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অথচ ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একটি অংশ সরাসরি উপকেন্দ্র বা কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কাজও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা চলছে। তাদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতি দ্রুত কমবে।



