প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মৃত্যুর পর এটাই তার প্রথম জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে এবারও কোনো উৎসব বা কেক কাটার আয়োজন না রেখে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি।
দলের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেবেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার, কারাবাস ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন খালেদা জিয়া। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যান। করোনাকালীন সময়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ার পর গুলশানের বাসভবনে থেকেই চিকিৎসা নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়া স্থায়ীভাবে মুক্তি পান। এরপর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেশে ও বিদেশে তার চিকিৎসা নিয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের পক্ষ থেকেও দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত নেত্রীর জন্য দোয়া এবং তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করা হবে।



