প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চায় না বাংলাদেশ। পারস্পরিক আস্থা, একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো না করার নীতি অনুসরণ করছে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হলে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জনগণের প্রত্যাশাকেও ভারতকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের ঐকমত্য এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের সফর আয়োজনের যৌক্তিকতা নেই বলেও তিনি মত দেন।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহৃত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় চাপ অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির অন্যান্য দিক তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর কাজ চলছে। চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর চেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক সম্মানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।



