রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে নতুন চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে নতুন চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে

প্রতীকী ছবি

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর নতুন করে একটি গ্রিড ও লেনদেন নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত চার্জ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য পাঁচ ভারতীয় রুপি হারে এই চার্জ দিতে হবে। বিদ্যুতের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় গ্রিড পরিচালনা, বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ, মিটার পরিমাপ, বিদ্যুতের হিসাব সংরক্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ লেনদেনের আর্থিক নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতেই মূলত এই চার্জ নেওয়া হয়। অর্থাৎ এটি সরাসরি বিদ্যুতের দাম নয়; বরং বিদ্যুৎ আমদানির সঙ্গে যুক্ত গ্রিড পরিচালনা ও লেনদেন ব্যবস্থাপনার ব্যয়।

এই চার্জ পরিশোধের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে একটি চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভারত প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য শূন্য দশমিক শূন্য এক ভারতীয় রুপি হারে এই চার্জ দাবি করেছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে প্রতি ইউনিটে শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য পাঁচ রুপিতে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব হলে ভারত থেকে চুক্তিবদ্ধ ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত এই হারটি নতুন কোনো ব্যতিক্রমী হার নয়। ভারত ইতোমধ্যে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যে একই হারে এই ধরনের চার্জ আদায় করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই হার অনুসরণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পূর্ণ সক্ষমতায় এক ঘণ্টা আমদানি করা হলে বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট। প্রতি ইউনিটে শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য পাঁচ রুপি হিসাবে এক ঘণ্টায় এ খাতে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ভারতীয় রুপি পরিশোধ করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি হলে মোট ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনটিপিসি, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন, পিটিসি ইন্ডিয়া এবং সেম্বকর্পের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মোট ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নতুন এই নিষ্পত্তি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানি পাওয়ারের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকায় আলাদা করে নতুন চুক্তির প্রয়োজন হবে না।

গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের গুরুত্ব বেড়েছে। নতুন নিষ্পত্তি চুক্তি কার্যকর হলে বিদ্যুতের মূল মূল্যের পাশাপাশি গ্রিড ও লেনদেন ব্যবস্থাপনার এই অতিরিক্ত ব্যয়ও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের অংশ হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!