প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দুই দেশের জন্য সুবিধাজনক সময় বিবেচনা করেই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সকালে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষই কাজ করছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকা ও দিল্লির পারস্পরিক সুবিধাজনক সময় বিবেচনা করে সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।
দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একতরফা অবস্থানের পরিবর্তে সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখাই তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নয়, আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
এ সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কেও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বক্তব্যটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনেই ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট সময়, কর্মসূচি ও আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য আরও সময় প্রয়োজন হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই আগামী দিনের কূটনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে চায় সরকার। দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতি এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।



