প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
গুমের শিকার হওয়াকে মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর মতে, মৃত্যুর পর স্বজনেরা অন্তত প্রিয়জনের মরদেহ দেখতে পান এবং শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে। কিন্তু গুমের ঘটনায় সেই সুযোগও থাকে না।
শনিবার রাজধানীতে ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: এক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গুমের পর নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। তাদের কাছে প্রিয়জন জীবিত আছেন কি না, কোথায় আছেন কিংবা আদৌ ফিরে আসবেন কি না—কোনো প্রশ্নেরই নিশ্চিত উত্তর থাকে না। ফলে আশা ও হতাশার মধ্যবর্তী এক অসহনীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে পরিবারগুলোকে দিন কাটাতে হয়।
তিনি বলেন, গুমের প্রভাব শুধু নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর কারণে পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে নানা চাপ, আর্থিক সংকট এবং এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
সাবেক এই বিচারপতি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে গুমের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। তখন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের অনেক সময় অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, যাতে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখানো যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ওপর উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা আসত বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।



