প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিককে কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন করে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে মোট দুই লাখ শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিকের ক্ষেত্রে কোনো খরচ দিতে হবে না। তবে বিনা খরচে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া, নির্বাচনের পদ্ধতি ও অন্যান্য বিস্তারিত বিষয় সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাননি।
দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। বিভিন্ন সময়ে নানা জটিলতার কারণে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মীর শাহে আলম জানান, দেশের বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়া বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা রয়েছে। তবে কোন কোন খাতে এই বিনিয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।
সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রমবাজার ও বিনিয়োগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রমিক নেওয়ার নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়লে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে রাজধানীর যান চলাচল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দ্রুত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।
তবে রাজধানীর নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের জন্য দুই আসন ও চার আসনের বৈদ্যুতিক রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।
একদিকে বিদেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, অন্যদিকে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধিমালা—দুই বিষয়েই সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।



