প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সংসদীয় যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত মতবিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশ অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য উভয় দেশের সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়, সংসদীয় কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংসদীয় ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকের শুরুতে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর প্রশংসা করেন দীনেশ ত্রিবেদী। স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই ভবনের নান্দনিকতা ও স্বাতন্ত্র্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিষ্ঠান ও এর কার্যক্রমের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।
দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে ধরে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের সংসদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতারা পরস্পরের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এতে সংসদীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও আরও সুদৃঢ় হবে।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ভারত সংসদীয় কার্যক্রম আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশও সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও সহজতর করতে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে ভারতের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কাজে লাগানো যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনারের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদীয় যোগাযোগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরিতে দীনেশ ত্রিবেদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হলে সংসদীয় কূটনীতির পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের জন্য নতুন সহযোগিতার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে উভয়পক্ষ জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বাংলাদেশে ভারতের উপহাইকমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



