রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশ অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

দেশ অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি মহল নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের সামাজিক শান্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য নষ্ট হলে এর প্রভাব শুধু কোনো একটি সম্প্রদায়ের ওপর পড়ে না; সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো দেশ। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি না করে সবাইকে দেশের নাগরিক হিসেবে সমান মর্যাদা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাস্তবতায় কে সংখ্যাগুরু আর কে সংখ্যালঘু—এ পরিচয়কে প্রধান করে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো তারা এ দেশের নাগরিক। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখার দায়িত্ব প্রত্যেকের।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অপশক্তি যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার না করার বিষয়েও সচেতনতা প্রয়োজন। গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হলে তা দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সরকার দেশের সব নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার দায়িত্বশীল। কোনো নাগরিক যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সেটি নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে বিভাজন সৃষ্টিকারী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে সম্মানীর অর্থ তুলে দেন। একই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়ার তথ্যও জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং গুজবের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে দেশকে রক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!