প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে শুরুতেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বাংলাদেশ ও ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান পেশাগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমুদ্র নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। দুই দেশের সামরিক সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে উভয় দেশের বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বিভিন্ন সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরসহ বিস্তৃত আঞ্চলিক জলসীমায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের সরকারের আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে ভারত গুরুত্ব দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী ভবিষ্যতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের অভিন্ন নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্বার্থের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ভারতের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও তারা একমত হন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ বিনিময় ও পেশাগত সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, সমুদ্র নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তির মতো অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।



