প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদবির আগে দাপ্তরিক নথিতে প্রচলিত সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিজের দপ্তর থেকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন নির্দেশনা জারির পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমেও তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ৯ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া এ নির্দেশনা সরকারি দপ্তরগুলোতে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত নিজের কার্যালয়েও কার্যকর করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত বিভিন্ন সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ লেখার পরিবর্তে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পর্যায়ে পদবির সঙ্গে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলন থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে দাপ্তরিক যোগাযোগে ব্যক্তির পরিবর্তে পদ ও দায়িত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধারা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কার্যক্রমে শুধু সম্বোধনসংক্রান্ত পরিবর্তন নয়, দাপ্তরিক নিয়মকানুন পালনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেও অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থায় উপস্থিতি নথিভুক্ত করছেন বলে জানানো হয়েছে। একইভাবে দিনের দায়িত্ব শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত নিয়মে হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে।
সরকারপ্রধান নিজেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে চললে প্রশাসনের অন্য পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যেও একই ধরনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা পৌঁছাবে। সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে নিয়মিত থাকা এবং দাপ্তরিক ব্যবস্থার প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেওয়া এ ধরনের পদক্ষেপকে রাষ্ট্রীয় কাজে আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকে গুরুত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই দাপ্তরিক নিয়ম কার্যকর থাকলে প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমতার ধারণা আরও জোরালো হতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তারেক রহমান প্রকাশ্যে তাঁর নামের আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নতুন সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে সেই অবস্থান এখন দাপ্তরিক ব্যবস্থার অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারি নথি, চিঠিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ বাদ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
এদিকে প্রশাসনিক কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিজেরাই যদি প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেন, তাহলে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছেও নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়া এবং অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থায় নিয়মিত অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাই শুধু একটি দাপ্তরিক পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি বার্তা হিসেবেও সামনে এসেছে।
সরকারের নতুন নির্দেশনায় সম্মানসূচক সম্বোধনের পরিবর্তে পদমর্যাদা ও দায়িত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার যে নীতি নেওয়া হয়েছে, তা সব সরকারি দপ্তরে কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



