প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
সরকার ঘোষিত নতুন বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জনগণ যে ধরনের চাপ ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার কার্যকর সমাধানের কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত এক বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিরসন, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকারের দাবিতে এগারো দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। কিন্তু জনগণের এমন বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কেবল অর্থনৈতিক নয়; সামাজিক ও মানসিক চাপও তৈরি করছে। সাধারণ মানুষ দিন দিন হতাশ হয়ে পড়ছে। অথচ সরকার জনগণের এই কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে গুরুত্বহীনভাবে দেখছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে গভীর চাপে রয়েছে। ব্যাংক খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। জনগণের অর্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেন কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষায়, জনগণের আমানত রক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সমাবেশে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।



