রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘন ঘন ভূমিকম্পে ইসলামের আলোকে মুমিনের করণীয় কী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

ঘন ঘন ভূমিকম্পে ইসলামের আলোকে মুমিনের করণীয় কী

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বারবার ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসছে। অসংখ্য মানুষ স্বজন হারাচ্ছেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেবল একটি ভৌত ঘটনা নয়, বরং মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও সতর্কবার্তার অন্যতম নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের দায়িত্ব কেবল আতঙ্কিত হওয়া নয়, বরং আত্মসমালোচনা, ইবাদত বৃদ্ধি এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবীতে সংঘটিত নানা ঘটনা মানুষের জন্য শিক্ষা ও সতর্কতার মাধ্যম। এসব ঘটনার মাধ্যমে মানুষকে গাফিলতি, অহংকার ও অন্যায় থেকে ফিরে এসে সৎপথে চলার আহ্বান জানানো হয়। তাই ঘন ঘন ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ একজন বিশ্বাসীর জন্য আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগও বটে।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, এমন বিপদের সময়ে সর্বপ্রথম আন্তরিক তাওবা ও ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। নিজের জানা-অজানা সব গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে অন্যায় থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।

একই সঙ্গে বেশি বেশি দোয়া করা, নিয়মিত সালাত আদায় করা এবং মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই বিপদের সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর রহমতের প্রত্যাশা করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

ইসলাম আরও শিক্ষা দেয়, সমাজে অন্যায়, অবিচার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকতে। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষকে বিপদগ্রস্ত ভাইয়ের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

এছাড়া ভূমিকম্প মানুষের সামনে পরকালের বাস্তবতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। পৃথিবীর সব শক্তি ও সামর্থ্য যে মহান আল্লাহর ইচ্ছার সামনে অসহায়, এই উপলব্ধি একজন বিশ্বাসীকে আরও বিনয়ী ও দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে।

তবে ইসলাম কেবল ইবাদতের নির্দেশ দেয় না, বরং বাস্তব প্রস্তুতির প্রতিও গুরুত্বারোপ করে। তাই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ ভবন নির্মাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন, জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলাও ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি বৈধ ও প্রয়োজনীয় উপায় গ্রহণ করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

সবশেষে বলা যায়, ঘন ঘন ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ যত উন্নত প্রযুক্তির অধিকারীই হোক না কেন, মহান আল্লাহর ক্ষমতার সামনে সবাই সমানভাবে নির্ভরশীল। তাই এমন দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঈমান, তাকওয়া, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করাই একজন মুমিনের প্রকৃত করণীয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!