প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
পবিত্র কোরআন মানুষের জন্য হেদায়েত, নৈতিকতা ও সুন্দর জীবনযাপনের পথনির্দেশনা। মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কীভাবে ন্যায়, দয়া, সহনশীলতা, ক্ষমা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে কোরআনে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। মানুষের প্রকৃত মর্যাদা তার সম্পদ, বংশ, জাতি কিংবা সামাজিক অবস্থানে নয়; বরং তার নৈতিকতা, তাকওয়া ও মানবিক আচরণে।
কোরআনে মানুষকে সম্মানিত সৃষ্টির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সূরা বনি ইসরাঈলের ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আদম সন্তানকে মর্যাদা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আবার সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করা হয়েছে পরস্পরের পরিচিত হওয়ার জন্য। সেখানে মর্যাদার মূল ভিত্তি হিসেবে তাকওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষের ন্যায়পরায়ণ, দয়ালু ও ক্ষমাশীল হওয়ার শিক্ষা রয়েছে কোরআনে। অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে যেন কেউ ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের সম্মান রক্ষা, কুৎসা ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা এবং অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক জীবনেও মানবিকতার গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ, সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা দেওয়া এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, মমতা ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার নির্দেশনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও পারস্পরিক অধিকার রক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক জীবনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্তদের সহযোগিতা করা, ভালো কাজে একে অন্যকে সহায়তা করা এবং বিরোধ দেখা দিলে তা মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছে পবিত্র কোরআন। ক্ষুধার্ত, এতিম ও অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনকেও মহৎ গুণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
কোরআনের এসব শিক্ষা অনুসরণ করলে ব্যক্তি যেমন নৈতিক ও মানবিক হয়ে উঠতে পারে, তেমনি পরিবার ও সমাজেও শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই মানবিক মূল্যবোধের চর্চা শুধু ব্যক্তিগত গুণ নয়, বরং সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।



