প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
টানা দুই বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের শক্তি নিয়ে হাজির হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ সালে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জনের পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পূর্ণাঙ্গ দল ঘোষণা করেছে ইউরোপের এই শক্তিশালী দলটি। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে গড়া দলটি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদরিচ, যিনি বয়স ৪০ হলেও এখনো দলের কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি গালের চোটে পড়ে অস্ত্রোপচার করলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবারও অনুশীলনে ফিরেছেন। তার ফেরা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের মধ্যমাঠ সামলানো এই তারকার অভিজ্ঞতা এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা প্রতিভাবান ডিফেন্ডার ইওস্কো গাভার্দিওলও বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। জানুয়ারি মাসের পর তিনি ক্লাব পর্যায়ে কিছু ম্যাচে ফিরলেও পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পরই তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রক্ষণভাগে তার উপস্থিতি দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্রোয়েশিয়ার প্রধান কোচ জ্লাতকো দালিচ দল ঘোষণার পর জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো শক্তিশালী গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করা। তিনি বলেন, দলে অভিজ্ঞতা এবং তরুণ শক্তির দারুণ ভারসাম্য রয়েছে, যা বড় টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, খেলোয়াড়দের মান, মানসিকতা এবং প্রস্তুতি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।
আগামী বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া রয়েছে ‘এল’ গ্রুপে। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রথম ম্যাচ হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচ দিয়েই তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর গ্রুপের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো পানামা ও ঘানা। তুলনামূলকভাবে প্রতিটি ম্যাচই চ্যালেঞ্জিং হলেও ক্রোয়েশিয়া নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দলটি দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে নিজেদের মাঠে। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে বেলজিয়াম ও স্লোভেনিয়া। এই ম্যাচগুলো মূল আসরের আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোচিং স্টাফ আশা করছেন, এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো দলকে চূড়ান্ত কৌশল ঠিক করতে সহায়তা করবে।
ক্রোয়েশিয়ার এবারের দলে গোলরক্ষক বিভাগে রয়েছেন ডমিনিক লিভাকোভিচ, ডমিনিক কোতারস্কি এবং ইভোর পান্দুর। রক্ষণভাগে গাভার্দিওল ছাড়াও আছেন দুয়ে চালেতা-সার, ইয়োসিপ শুতালো, ইয়োসিপ স্তানিশিচসহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়। মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেবেন মদরিচের সঙ্গে মাতেও কোভাচিচ, মারিও পাশালিচ, নিকোলা ভ্লাশিচসহ আরও অনেকে।
আক্রমণভাগে রয়েছেন ইভান পেরিসিচ, আন্দ্রে ক্রামারিচ, আনতে বুদিমির, মার্কো পাশালিচ, পেতার মুসা এবং ইগর মাতানোভিচ। অভিজ্ঞতা ও নতুন শক্তির সমন্বয়ে গড়া এই আক্রমণভাগকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা রয়েছে সমর্থকদের।
বিশ্বকাপজয়ী হওয়ার লক্ষ্য না বললেও ক্রোয়েশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চায় এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। টানা দুই বিশ্বকাপে সাফল্যের পর এবারও দলটি বিশ্বমঞ্চে বড় চমক দেখাতে পারে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের প্রধান আগ্রহ।



