প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার হতাশা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের মূল পর্বে অংশ নিতে পারছে না, যা ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য এক গভীর আক্ষেপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই হতাশার মাঝেও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে নিজেদের ইতিবাচক ছন্দ ধরে রেখেছে দলটি।
রবিবার গ্রিসের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি ম্যাচে স্বল্প ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে ইতালি। পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত এক গোলের জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে আজ্জুরিদের। ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি আসে তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফ্রানচেস্কো পিও এস্পোসিতোর পা থেকে।
খেলার শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া ছিল ইতালি। দ্রুত বল দখল এবং ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে গ্রিসের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। মাঝমাঠ থেকে দারুণ একটি পাস পেয়ে নিয়ন্ত্রণের পর নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন এস্পোসিতো। তার এই গোলে এগিয়ে যায় ইতালি এবং সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
প্রথমার্ধে গোলের পর আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল ইতালি। তবে শেষ মুহূর্তের দুর্বলতায় ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে গ্রিসও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালালেও ইতালির রক্ষণভাগ বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে নাটকীয়তা বাড়ে। ইতালি আরও কয়েকবার গোলের খুব কাছে পৌঁছে গেলেও সফল হতে পারেনি। তবে ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় দলটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হওয়া এক তরুণ রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মাঠে নামার অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিপক্ষকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচের বাকি অংশে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিকে।
সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে গ্রিস। এক পর্যায়ে তাদের একটি জোরালো শট গোলবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ দিকেও একাধিক আক্রমণ থেকে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় দলটি। কিন্তু ইতালির গোলরক্ষক দুর্দান্ত দক্ষতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে জয় এনে দেন।
এই জয় ইতালির জন্য শুধু একটি প্রস্তুতি ম্যাচের সাফল্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। অন্তর্বর্তীকালীন কোচের অধীনে টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়ায় দলের ভেতরে ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে না থাকার আক্ষেপ থাকলেও তরুণদের পারফরম্যান্স ইতালিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ হতাশা কাটিয়ে খুব দ্রুতই আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরবে তাদের প্রিয় দল।



