প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের যাত্রা শুরু করেই শক্তিমত্তার জানান দিল জার্মানি। প্রথম ম্যাচেই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলের বন্যা বইয়ে ৭-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি। আক্রমণাত্মক ফুটবল আর নিখুঁত সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি জার্মানরা।
খেলা শুরুর পর থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে জার্মানি। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় দলটি। মাঝমাঠের খেলোয়াড় ফেলিক্স এনমেচা দ্রুত আক্রমণ থেকে প্রথম গোলটি করে জার্মান শিবিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেন। শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা চালায় কুরাসাও।
ম্যাচের একুশতম মিনিটে সমতায় ফেরে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে আসা লিভানো কোমেনেনসিয়ার জোরালো শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। এতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই গোলের দেখা পেয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় কুরাসাও।
তবে সমতায় ফিরেও বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে পারেনি তারা। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে আবারও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে জার্মানি। ম্যাচের আটত্রিশতম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে আবারও এগিয়ে দেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নিকো শ্লটারবেক। এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় জার্মানি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান আরও বাড়ান কাই হাভার্টজ। তিন-এক ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেও একই ছন্দ ধরে রাখে জার্মানি। বিরতির পরপরই ইয়োশুয়া কিমিখের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। এরপর ম্যাচের আটষট্টিতম মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউন দলের পঞ্চম গোলটি করেন।
প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। দশ মিনিট পর আরও একটি গোল যোগ করেন ডেনিজ উনদাভ। শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানির বড় জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন বড় জয় জার্মান সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দলের আক্রমণভাগ, মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের সমন্বিত পারফরম্যান্সে স্পষ্ট হয়েছে, এবারের আসরে শিরোপার দৌড়ে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই নিজেদের জানান দিতে প্রস্তুত তারা।



