রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাঠের বাইরে অদৃশ্য বিপদে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার জার্মানি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

মাঠের বাইরে অদৃশ্য বিপদে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার জার্মানি

ফাইল ছবি

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত সূচনা করেছে জার্মানি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইউরোপের অন্যতম সফল দলটি। মাঠের খেলায় শক্তিমত্তার প্রমাণ দিলেও দলের ভেতরে এখন ভিন্ন এক উদ্বেগ কাজ করছে। প্রতিপক্ষের কৌশল নয়, বরং প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। তবে কয়েকটি দলের আবাসন ও অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে বিষধর সাপের উপস্থিতির খবর সামনে আসার পর নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং নরওয়ের শিবিরে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জার্মান দলের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে একটি বিষধর সাপ দেখা যাওয়ার পর থেকেই খেলোয়াড়দের চলাফেরায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই অঞ্চলে এমন কিছু সাপ রয়েছে যাদের কামড় প্রাণঘাতী না হলেও গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে।

দলের অধিনায়ক জশুয়া কিমিখও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত একটি বড় প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের মনোযোগ থাকে প্রতিপক্ষের শক্তি, কৌশল কিংবা নিজেদের শারীরিক অবস্থার দিকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। মাঠের বাইরেও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

খেলোয়াড়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাপটি দেখা যাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের সতর্ক করে দিয়েছে। কোনো সাপ চোখে পড়লে সেটিকে বিরক্ত না করে দ্রুত দায়িত্বশীলদের জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন এলাকা ও অনুশীলন মাঠের আশপাশে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শুধু জার্মানি নয়, সুইজারল্যান্ডের শিবিরেও একই ধরনের সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের অনুশীলন কেন্দ্রের একটি অংশকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে নরওয়ের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারাও পরিবেশগত এই ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে এ ধরনের সাপ স্বাভাবিকভাবেই বিচরণ করে। গরম আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে তারা ঘাসে আচ্ছাদিত এলাকা কিংবা নির্জন স্থানে অবস্থান করে থাকে। ফলে খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

জার্মান ফুটবলাররা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাদের কাছে একেবারেই নতুন। ইউরোপের অনেক দেশে সাপ থাকলেও এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিবেশগত নিরাপত্তাও এখন তাদের ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে দলীয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং নিরাপত্তা তদারকির মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে থাকলেও জার্মানি ও অন্যান্য কয়েকটি ইউরোপীয় দল এখন ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই তাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে এমন এক অদৃশ্য বিপদের বিরুদ্ধে, যা যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!