রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাঁটতে না পারা ছেলের পায়ে ভর করেই মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

হাঁটতে না পারা ছেলের পায়ে ভর করেই মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা

ফাইল ছবি

একসময় চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, তিনি হয়তো স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেই পারবেন না। কিন্তু ভাগ্যের সেই কঠিন ভবিষ্যদ্বাণীকে মিথ্যা প্রমাণ করে আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন মরক্কোর তরুণ তারকা ইসমাইল সাইবারি। চলমান বিশ্বকাপে তাঁর দুর্দান্ত নৈপুণ্য শুধু দর্শকদের মুগ্ধই করেনি, বরং মরক্কোর সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। গ্রুপপর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করে তিনি দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক কীর্তি গড়েছেন। ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে গোল করে মরক্কোর প্রথম ফুটবলার হিসেবে গ্রুপপর্বের সব ম্যাচে গোল করার বিরল অর্জন নিজের নামে লিখিয়েছেন তিনি।

তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। স্পেনে জন্ম নেওয়া সাইবারির শরীরে জন্মের পরই একটি জটিল শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ চিকিৎসা ও সহায়ক যন্ত্রের সাহায্যে তিনি ধীরে ধীরে হাঁটতে শেখেন। পরিবারের নিরন্তর সমর্থন এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাঁকে জীবনের কঠিন সময়গুলো পার হতে সহায়তা করে।

পরবর্তীতে পরিবারসহ বেলজিয়ামে বসবাস শুরু করেন তিনি। সেখানে ফুটবল প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এক পর্যায়ে শারীরিক গঠন নিয়ে সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যানের শিকার হন। কিন্তু এসব বাধাকে দুর্বলতা নয়, বরং শক্তিতে রূপান্তর করেন সাইবারি। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন।

বর্তমানে তিনি ইউরোপের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়দের একজন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্যে উজ্জীবিত মরক্কো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। কোটি কোটি সমর্থকের আশা এখন এই লড়াকু ফুটবলারের পায়ের জাদুকে ঘিরেই। জীবনযুদ্ধ জয় করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে সাইবারি আজ হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!