প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৯:১১ এএম
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দাপুটে এক জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। সুইডেনের বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি জোড়া গোল করে নিজের অসাধারণ ছন্দের প্রমাণ দিয়েছেন, আর একটি গোল করেন ব্রাডলি বার্কোলা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণে সুইডেনের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। অন্যদিকে সুইডেন মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে তারা কার্যকর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
ম্যাচের উনিশতম মিনিটে এমবাপ্পে বল জালে পাঠালেও সহকারী রেফারির সংকেতের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। অফসাইডের কারণে গোলটি গণ্য না হলেও এতে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। দারুণ এক আক্রমণ থেকে এমবাপ্পে নিখুঁত সমাপ্তি টেনে দলকে এগিয়ে দেন। বিরতিতে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছন্দ ধরে রাখে ফ্রান্স। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে মাইকেল অলিসের চমৎকার পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাডলি বার্কোলা। এই গোলের পর সুইডেন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে তারা অসহায় হয়ে পড়ে।
ম্যাচের শেষ ভাগে আবারও আলো ছড়ান এমবাপ্পে। অলিসের আরেকটি নিখুঁত পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ফ্রান্স জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সব আশা শেষ করে দেয়।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠেছে ফ্রান্স। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল প্যারাগুয়ে। আগের ম্যাচে টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। ফলে দুই ভিন্ন মহাদেশের দুই শক্তিশালী দলের মধ্যকার লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের কার্যকর সমন্বয় ধরে রাখতে পারলে ফ্রান্স শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করবে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে তাদের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা, যেখানে জয়ী দলই জায়গা করে নেবে কোয়ার্টার ফাইনালে।



