প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই নতুন হিসাব। এখানে গ্রুপ পর্বের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার মূল্য খুবই সীমিত। একটি মুহূর্ত, একটি গোল অথবা একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। এমন বাস্তবতায় শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৫টায় টরন্টোয় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
দুই দলই প্রত্যাশামতো গ্রুপ পর্ব শেষ করতে পারেনি। রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেওয়ার পর এখন আর ভুলের কোনো সুযোগ নেই। জয়ী দল এগিয়ে যাবে পরবর্তী পর্বে, আর পরাজিত দলের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি ঘটবে।
পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেস মনে করেন, তাদের আসল পরীক্ষা এখন শুরু। তার ভাষায়, গ্রুপ পর্ব ছিল নিজেদের প্রস্তুত করার সময়। দল কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ঐক্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং লড়াই করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নকআউটে নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দেওয়াই লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়াও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে। গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ বলেছেন, দলের সবচেয়ে বড় শক্তি পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্য। সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করে বলেই কঠিন পরিস্থিতিতেও দল ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা শক্তিশালী পর্তুগালের মোকাবিলা করবে।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দুই কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ। একসময় একই ক্লাবের জার্সিতে খেললেও এবার তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবেন। বয়সের এই পর্যায়ে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও চলছে আলোচনা। অনেকের ধারণা, এই আসরই হতে পারে দুই তারকার শেষ বিশ্বকাপ।
চলতি আসরে রোনালদো ইতোমধ্যে তিন ম্যাচে দুটি গোল করে দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো গোল না করার পরিসংখ্যান বদলানোর সুযোগও রয়েছে তার সামনে। অন্যদিকে, মদ্রিচ গোল না পেলেও মধ্যমাঠে তার অভিজ্ঞতা ও নিখুঁত পাস ক্রোয়েশিয়ার খেলায় ভারসাম্য এনে দিচ্ছে।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে পর্তুগাল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউটের মঞ্চে অতীতের হিসাব খুব কমই প্রভাব ফেলে। এর আগে বিশ্বকাপের মূল পর্বে দুই দলের কখনো দেখা হয়নি। তবে অন্যান্য প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে তাদের দশবারের সাক্ষাতে সাতবার জয় পেয়েছে পর্তুগাল, একবার জিতেছে ক্রোয়েশিয়া এবং দুটি ম্যাচ অমীমাংসিত থেকেছে।
এবারের লড়াই পর্তুগালের জন্য আবেগেরও। ঠিক এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দেশটির ফুটবলার দিয়োগো জোতা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভা। সেই বেদনাবিধুর স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করেই মাঠে নামবে পর্তুগিজরা। সতীর্থের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে জয় তুলে নেওয়ার প্রত্যয় দলের প্রতিটি সদস্যের মধ্যেই স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে কৌশল, অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং তারকাদের পারফরম্যান্স মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে শ্বাসরুদ্ধকর এক মহারণ।



