প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন পরিচিতি তৈরি করেছে মিশর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জয় এবং নকআউট পর্বে উঠে ইতিহাস গড়া আফ্রিকার দলটি শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দেখিয়েছে অসাধারণ প্রতিরোধ। আর এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর হিসেবে সামনে এসেছে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের নাম।
দলের পরিবর্তিত চেহারা এবং সাম্প্রতিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে হোসাম হাসানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন করেছে মিশরের ফুটবল কর্তৃপক্ষ। নতুন চুক্তির আওতায় আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত মিশরের ডাগআউটে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
২০২৪ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মিশরের ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে শুরু করেন হোসাম হাসান। তার কৌশল, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দলীয় সমন্বয়ের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সাফল্য পেতে শুরু করে মিশর। তার অধীনেই দলটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।
এবারের বিশ্বকাপে মিশরের যাত্রা ছিল স্মরণীয়। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত কৌশলে খেলতে নামে দলটি। একপর্যায়ে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়েও ছিল মিশর। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
ম্যাচে হারলেও মিশরের পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে হোসাম হাসানের কৌশল ও দল পরিচালনার দক্ষতা ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।
খেলোয়াড় হিসেবেও মিশরের ফুটবলে উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে হোসাম হাসানের। জাতীয় দলের হয়ে ১৭৭টি ম্যাচে ৬৯টি গোল করেছেন তিনি। দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন এই কিংবদন্তি।
খেলোয়াড় জীবন থেকে শুরু করে কোচিং ক্যারিয়ার—দুই ক্ষেত্রেই মিশরের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হোসাম হাসান এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাবেন। বিশ্বকাপে তার অধীনে তৈরি হওয়া আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে আগামী বছরগুলোতে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে মিশর।



