প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর একটি গোল্ডেন বুটের লড়াই এবার পৌঁছেছে চরম উত্তেজনায়। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে থাকা কয়েকজন তারকা এখন ছিটকে গেলেও শীর্ষ লড়াইয়ে টিকে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিদায়ের মধ্য দিয়ে গোলের ঝড় তোলা আর্লিং হালান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় নরওয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে সাত গোল করে আলো ছড়ানো হালান্ডকে থামিয়ে দেয় ইংল্যান্ডের শক্তিশালী রক্ষণভাগ।
অন্যদিকে ওই ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। তার গোলসংখ্যা এখন ছয়। একই সংখ্যক গোল নিয়ে সতীর্থ হ্যারি কেইনও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে রয়েছেন।
তবে বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মেসি ও এমবাপ্পে। দুজনের ঝুলিতেই রয়েছে আটটি করে গোল। আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচে গোল পাননি মেসি। ফলে টানা কয়েকটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলহীন থাকার পরও তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মেসির জন্য গোল্ডেন বুট এখনো অধরা। বিশ্বকাপ, দলীয় সাফল্য ও ব্যক্তিগত অসংখ্য অর্জন থাকলেও এই পুরস্কারটি এখনো নিজের করে নিতে পারেননি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। এবার সেই সুযোগ আবারও সামনে এসেছে তার।
অন্যদিকে এমবাপ্পের জন্যও এবারের বিশ্বকাপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গোলের সংখ্যায় মেসির সঙ্গে সমতায় থাকলেও সহায়তার সংখ্যায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন ফরাসি তারকা। নিয়ম অনুযায়ী, সমান গোল হলে বেশি সহায়তা পাওয়া খেলোয়াড়ই এগিয়ে থাকবেন।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডেও চলছে দুই তারকার লড়াই। মেসির গোলসংখ্যা বর্তমানে ২১, আর এমবাপ্পে মাত্র এক গোল পিছিয়ে রয়েছেন। ফলে তাদের প্রতিটি গোল শুধু গোল্ডেন বুটের লড়াই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের রেকর্ডেও নতুন অধ্যায় যোগ করছে।
ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন শেষ পর্বের দিকে। যদি দুই দল নিজেদের পথ পেরিয়ে ফাইনালে ওঠে, তাহলে আবারও বিশ্বমঞ্চে দেখা যেতে পারে মেসি ও এমবাপ্পের মহারণ। চার বছর আগের স্মরণীয় ফাইনালের পর আরেকটি ঐতিহাসিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
হালান্ড, বেলিংহাম ও কেইনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের লড়াই যেন আবার ফিরে এসেছে সেই দুই মহাতারকার কাছে—মেসি ও এমবাপ্পে।



